BDExpress

এ লাশ বইব কেমনে

ঘড়ির কাঁটায় তখন বুধবার রাত সাড়ে ১০টা। পুরান ঢাকার চকবাজারে তখনো কমেনি মানুষের কর্মব্যস্ততা। হঠাৎ বিস্ফোরণের বিকট শব্দ আর ওয়াহেদ ম্যানশনের আগুনের লেলিহান শিখায় দিশাহারা হয়ে পড়েন সেখানকার মানুষ। মুহূর্তের এ ঘটনায় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় চুড়িহাট্টা এলাকা। নিভে যায় ৭৮টি প্রাণ প্রদীপ। হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন বেশ কয়েকজন। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি ভবন। পুড়ে গেছে বেশ কয়েকটি যানবাহন। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট প্রায় টানা ১০ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্ধার কাজে যোগ দেয় বিমানবাহিনী। চুড়িহাট্টার এ দুর্ঘটনায় শোকে কাতর পুরো দেশ। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এ ঘটনায় শোক প্রকাশ এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আবার অনেকেই বলেছেন, দেশ কেমন করে বইবে এ লাশের বোঝা। মুহূর্তেই লাশ হয়ে গেল কতগুলো তাজা প্রাণ। এ ঘটনার জন্য তারা কেমিক্যাল গোডাউনকে দায়ী করছেন। ঘটনা তদন্তে দুইটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অগ্নিদগ্ধ ৯ জনসহ অন্তত ২৫ জনকে ভর্তি করা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানকার বাতাসে মানুষপোড়া গন্ধ। স্বজনহারা আর আহতদের আহাজারি-আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে পরিবেশ। কারো যেন সান্ত্বনা দেয়ার কোনো ভাষা নেই। সবাই নির্বাক। মর্গে চলছে প্রিয় স্বজনের লাশ খোঁজার লড়াই। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত ৩৮টি লাশ শনাক্ত এবং ৩২টি লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৬১ জন পুরুষ, পাঁচজন নারী ও চারটি শিশু রয়েছে। এদিকে গতকাল রাতে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬৭ জন নিহত হওয়ার কথা সরকারিভাবে বলা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৪ জনই নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু অবৈধ কেমিক্যাল কারখানার কারণে এতো মানুষের প্রাণপ্রদীপ নিভে গেল। একই কারণে ২০১০ সালে পুরান ঢাকার নিমতলীর ভয়াবহ আগুনে ১২২ জন মানুষ পুড়ে অঙ্গার হয়েছিল। স্থানীয় মহলবিশেষের ব্যক্তিস্বার্থ ও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে আবারো এমন প্রাণহানি ঘটল। অবৈধ কেমিক্যাল গোডাউন সরানোর জন্য এ ঘটনা আবারো একটা বার্তা দিয়ে গেল।

চকবাজারের চুড়িহাট্টা গলিতে আগুন লাগে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে। এর সূত্রপাত নিয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অধিকাংশের মতে, চুড়িহাট্টা এলাকার ওয়াহেদ ম্যানশনের সামনে একটি পিকআপের সিলিন্ডার ভর্তি পিকআপ ও একটি প্রাইভেটকারের মধ্যে সংঘর্ষের পর বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়; যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী একটি হোটেলে ও বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে। আবার কেউ কেউ বলছেন, ওয়াহেদ ম্যানশনের পাশের হোটেল থেকে আগুন লাগে। আরেকটি সূত্র দাবি করেছে, বিদ্যুতের একটি ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়ে একটি মাইক্রোবাসের ওপর পড়ে। এরপর গাড়িটির সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ওয়াহেদ ম্যানশনে আগুন লাগে। সেখানে থাকা কেমিক্যালের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আরেকটি সূত্র দাবি করেছে, প্রথমে মাইক্রোবাসটির সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে ওপরে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারে আঘাত হানে। এরপর সেটি বিস্ফোরিত হয়ে আগুন আগে ওয়াহেদ ম্যানশনে। তারপরই কেমিক্যালের কারণে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। আগুন লাগার খবরে সেখানে গিয়ে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট। রাত সাড়ে তিনটার দিকে বিমানবাহিনীর দু’টি হেলিকপ্টারও আগুন নেভাতে কাজ করে। হেলিকপ্টার দুটি পানি ছিটিয়ে আগুন নেভাতে সহায়তা করে বলে স্থানীয়রা জানান। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়। সকাল আটটার পর শুরু হয় ভস্মীভূত ভবনগুলোর ভেতর তল্লাশি। একে একে বের করা হয় পোড়া লাশগুলো। ভবনগুলোর সামনের সড়কেও পড়েছিল নারী-পুরুষের পোড়া লাশ। লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে।

সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকর্মী সিরাজুল ইসলাম ও সিনিয়র স্টাফ নার্স পারভীন বেগম জানান, চকবাজারে আগুনের ঘটনায় তখন পর্যন্ত ৭৬ জনের লাশ এসেছে ঢাকা মেডিকেলে। এর মধ্যে ৬৫ জনের মরদেহ মূল মর্গে ও ১১ জনের মরদেহ জরুরিবিভাগে রাখা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এ পর্যন্ত আমাদের মর্গে (মেডিকেল কলেজ মর্গ) ৬৭টা লাশ পেয়েছি। আরো ১১টা লাশ আমাদের হাসপাতালে মর্গে আছে। এই টোটাল ৭৮টা লাশ। ৭৮টা লাশের মধ্যে কিছু লাশ আছে, তাদের চেহারা দেখে শনাক্ত করা যাবে। কিছু লাশ আছে তাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট লাগবে। ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে শনাক্ত করা যাবে। কিছু লাশ আছে চেহারা ও ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে শনাক্ত করা যাবে না, তাদের আমরা ডিএনএ প্রফাইলিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করব।

সরেজমিন দেখা গেছে, চকবাজারের হাজী ওয়াহেদ ম্যানশন চুড়িহাট্টার ৬৪ নন্দ কুমার দত্ত লেনে অবস্থিত। ভবনটি ৪ তলার। মাটির নিচে রয়েছে আরো একতলা; যার পুরোটাই গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। গুদামে কেমিক্যাল বোঝাই ছিল। ৪ তলা ভবনের ওপরের তলায় বাড়ির মালিকের দুই ছেলের বাস (মূল মালিক হাজী ওয়াহেদ মারা গেছেন), ৩ এবং ২ তলার পুরোটাই কারখানা ও গুদাম হিসেবে ব্যবহূত হয়। এসব কারখানা ও গুদামে সুগন্ধী, পাউডার (কসমেটিকসসহ কলকারখানার পণ্য), খেলনা, বাতি (ডিমলাইট), ফ্রিজ মেরামত, গ্রিজ-মবিলসহ দাহ্য পদার্থের ব্যাপক কারবার। আর নিচের তলাতে বিভিন্ন দোকানপাট ভাড়া দেয়া।

স্থানীয়রা জানান, চুরিহাট্টা এলাকাটি একটি সরু গলি, যেখানে দুইটি রিকশা কোনোমতে যাতায়াত করতে পারে। আগুনের ঘটনার সময়ে সরু এই গলির হাজী ওয়াহেদ ম্যানশন থেকে শুরু করে পাশের ওয়াটার ওয়ার্কস রোড, জেলখানা মোড়সহ আশপাশের সবখানেই ছিল যানজট। আর তাই হঠাত্ যখন আগুনের বিস্ফোরণ ঘটে তখন ওই যানজটে পড়া মানুষ আর বের হতে পারেননি। আগুনের বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনের দ্বিতীয়তলার পশ্চিম পাশের দেয়ালটি যানজটপূর্ণ এলাকার রাস্তার ওপর ভেঙে পড়ে। এতে তাত্ক্ষণিকভাবেই সেখানে মারা যান বেশ কজন পথচারী।

এলাকাবাসী বলেন, আগুন এমন দানবের মতো হানা দেয় যে হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনের উত্তরের রাস্তায় দাঁড়ানো পিকআপ ভ্যান, রিকশা-সাইকেল-মোটরসাইকেল সব নিমিষেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। যেগুলো এখন বিবর্ণ রঙ ধারণ করে চুড়িহাট্টার ওই রাস্তায় পড়ে আছে। সরেজমিন দেখা যায়, আগুনে নষ্ট হওয়া দালানকোঠা, গাড়ি, দোকান-পাটের টুকরা হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনের উত্তর এবং পশ্চিম পাশের রাস্তায় লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে আছে। যেন পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপ।

ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করা ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, যেহেতু এখানে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ ছিল, এগুলো নিয়মিত বিরতিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এগুলোর টেম্পার অনেক বেশি। এগুলোর সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে আমাদের ফায়ার ফাইটিং টিমগুলো কাজ করেছে। আবাসিক এলাকায় কোনো কেমিক্যালের গোডাউন থাকার কথা নয়।

উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা: অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ঘটনাস্থলে তদারকিতে থাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন গতকাল দুপুর ১টায় উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি আগুন নেভানোর কাজে জড়িতদের ধন্যবাদ জানিয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

এরপর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান বলেন, এখানে আসার রাস্তার দুইপাশই সরু। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সহজে ঢুকতে পারেনি। তবে শেষ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি। ভবনে দাহ্য পদার্থ থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে সকালে আগুন নেভানোর পর তল্লাশি চালিয়ে ৭৮টি লাশ উদ্ধারের কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। লাশগুলো ব্যাগে পুরো তারা পাঠায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে।

৩৮ জনকে শনাক্ত: চকবাজারে আগুনে নিহতের ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো ৭০ জনের লাশের মধ্যে গতকাল বিকেল পর্যন্ত ৩৮টি লাশ শনাক্ত করা হয়। নিহতদের মধ্যে ৬১ জন পুরুষ, পাঁচজন নারী ও চারটি শিশু রয়েছে। এদের মধ্যে থেকে ৩২টি লাশ হস্তান্তর করা হয়। লাশগুলোর মধ্যে থেকে আরো কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তা স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছিল।

গতকাল বিকেলে ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ বলেন, বেলা সোয়া দুইটার দিকে লাশ হস্তান্তরের প্রত্রিয়া শুরু হয়। যাদের লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে সেগুলো তাদের স্বজনদের বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে। যেসব লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হবে না, সেগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরবর্তীতে স্বজনদের সঙ্গে মিলিয়ে হস্তান্তর করা হবে।

হাসপাতালে স্থাপিত ঢাকা জেলা প্রশাসনের তথ্যকেন্দ্র থেকে লাশ হস্তান্তরের সার্বিক দায়িত্বে থাকা ঢাকার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সেলিম রেজা বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আমরা ৩৮টি মরদেহ শনাক্ত ও এর মধ্যে থেকে ৩২টি হস্তান্তর করেছি। মরদেহ সমাহিত করার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে।

যাদের লাশ হস্তান্তর করা হলো: নোয়াখালীর কামাল হোসেন (৪৫), মাহবুবুর রহমান রাজু (২৯), আলী হোসেন (৬৫), হেলাল উদ্দিন (৩২), মাসুদ রানা (৩৫), মোশাররফ হোসেন (৪৩), সিদ্দিক উল্লাহ (৪৫), ধানমণ্ডির অসি উদ্দিন (২৩), পটুয়াখালীর এনামুল হক কাজী (২৮) ও মজিবুর হওলাদার (৫০), কুমিল্লার হাফেজ মো, কাউসার আহমেদ (২৬) ও শাহাদত্ হোসেন (৩০), চকবাজারের মো. ইয়াসিন (৩৩), জুম্মান (৫২), আবু রায়হান (৩১), আরাফাত আলী (৩), মোহাম্মদ আলী (২২), চাঁদপুরের আবু বকর সিদ্দিক (২০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশরাফুল হক (২০), পাবনার ইমতিয়াজ ইমরোজ রাসু (২২), বংশালের সিয়াম আরাফাত (১৯) ও শরীয়তপুরের ওমর ফারুক (৩০)। বাকিদের নাম এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

আগুন নেভাতে ও উদ্ধার কাজে বিমানবাহিনী: পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকায় চারটি ভবনে ছড়িয়ে পড়া আগুন নেভাতে এবং উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি যোগ দিয়েছিল বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অগ্নিকাণ্ডস্থলের আকাশে বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার উড়তে দেখা যায়।

সেখানে উপস্থিত বিমানবাহিনীর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ফায়ার সার্ভিস ইনচার্জ) স্কোয়াড্রন লিডার সঞ্জিব চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, পানি স্বল্পতার খবর পেয়ে বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে চার গাড়ি পানি নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ছাড়া দুটি হেলিকপ্টার আকাশে উড়ছে। কাউকে উদ্ধার করার প্রয়োজন হলে কিংবা ওপর থেকে ভবনগুলোর দিকে পানি ছিটিয়ে দেয়া হয়। তেজগাঁও বিমান ঘাঁটিতে আরো চারটি হেলিকপ্টার স্ট্যান্ডবাই রাখা ছিল।

ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ৯ জন: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের কর্তব্যরত এক নার্স জানান, এখানে পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে দগ্ধ হয়ে আটজন চিকিত্সা নিচ্ছেন। একজন ৬০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় আইসিইউতে আছেন। বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বাইরে দিনমজুর আবু তাহেরকে (৬৫) দেখা যায় আহাজারি করতে। তার ছেলে সোহাগ (২২) রয়েছেন আইসিইউতে। মা বেদানা বেগম (৫৫) ছেলের সঙ্গে রয়েছেন। সোহাগের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে রাতেই জানিয়েছিলেন চিকিত্সক হোসাইন ইমাম।

বার্ন ইউনিটের দ্বিতীয়তলার পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে ঢুকতেই চোখে পড়ে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে। তিনি সারা শরীরে ব্যান্ডেজ মোড়ানো অবস্থায় শুয়ে আছেন। তার মেয়ে বীথি বলেন, বাবা পেশায় রিকশাচালক। তিন ভাইসহ তারা কামরাঙ্গীরচর থাকেন। রাতে বাবা নিজেই বাসায় ফোন করে বলে, আমার শরীরে আগুন লাগছে। এরপর তার ফোনের পাশে থাকা অপরিচিত কণ্ঠ থেকে বলা হয় ঢাকা মেডিকেলে চলে আসেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস

আরো পড়ুন
  • 678
লোড হচ্ছে ···
আর নেই