BDExpress

সাব্বিরের উদযাপন পছন্দ হয়নি মাশরাফির

আগের দুই ম্যাচে ৮ উইকেটের বড় হার। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ৮৮ রানের হার। সিরিজ খুইয়ে এবার হোয়াইটওয়াশই হলো টাইগাররা। তবে দিন শেষে প্রাপ্তির খাতায় সাব্বির রহমানের দুর্দান্তভাবে ফিরে আসা। তার ব্যাটে সেঞ্চুরিটাই যেনো জানান দেয়, বাংলাদেশের ভালো সময়ের।

দল হারলেও ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন সাব্বির। মাত্র ১১০ বলে ১০২ রানের একটি ঝকঝকে ইনিংস উপহার দেন বাংলাদেশ দলের এই হার্ড হিটার। অনেকটা সময় পর যেনো নতুন করে নিজেকে চেনালেন সাব্বির। সিরিজের বাকি দুই ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ ও ৪৩ রান।

সিরিজ শুরুর আগে সাব্বিরের দলে আসা নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। তারই জবাব যেনো দিলেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। জবাবটা শুধু ব্যাটেই নয়, ছিলো তার সেঞ্চুরির উদযাপনেও।

সেঞ্চুরির পর এক হাতে ব্যাট আর আরেক হাতে বকবক করার ভঙ্গি দেখিয়ে সাব্বির কী বলতে চেয়েছেন, সেটি বুঝতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সেটির অবশ্য ভিন্ন ভিন্ন অর্থও করা যায়। একটি অর্থ হতে পারে, ‘আমি যা বলবার তা ব্যাট দিয়েই বলব।’ অথবা—‘অনেক তো বকবক করেছ, দেখো ব্যাট দিয়েই তার কেমন জবাব দিলাম।’

সাব্বির আসলে ব্যাট দিয়ে দেওয়া জবাবটাকে যথেষ্ট মনে না করে সমালোচকদের উদ্দেশে বাড়তি কিছু তিরই ছুড়ে দিতে চেয়েছেন। মাশরাফি বিন মুর্তজার যা একদমই পছন্দ হয়নি।

শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ থাকার সময়টা শেষ হওয়ার আগেই সাব্বিরকে দলে ফেরানো নিয়ে সমালোচনাটা অযৌক্তিক কিছু ছিল না। তারপরও তাঁকে ফেরানো হয়েছে, সাত নম্বরে তাঁর কোনো বিকল্প খুঁজে না পাওয়ায়। তৃতীয় ম্যাচে একজন বোলার বেশি খেলানোয় সাব্বির এদিন অবশ্য নেমেছেন ছয় নম্বরে। শাস্তি ভোগ শেষ না করেই তাঁর দলে ফেরায় অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার চাওয়ার অবশ্যই বড় ভূমিকা ছিল। সাব্বিরের সেঞ্চুরিতে মাশরাফিরই তাই সবচেয়ে বেশি খুশি হওয়ার কথা। সেটি অবশ্যই হয়েছেন। কিন্তু উদ্‌যাপন করতে গিয়ে সাব্বিবের পাল্টা জবাব দেওয়াটা তাঁর একদমই পছন্দ হয়নি। আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার পর সাব্বিরকে পরিষ্কারভাবে সেটি জানিয়েও দিয়েছেন।

মাশরাফি বলেন, ‘ওকে জিজ্ঞেস করায় ও বলেছে, আমি বলতে চেষ্টা করেছি, আমার ব্যাট অনেক দিন পর কথা বলেছে।’ আসল ঘটনা যে তা নয়, সেটি কি আর মাশরাফি বোঝেননি নাকি! নইলে কেন বলবেন, ‘ভবিষ্যতে ওকে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শিখতে হবে।’ এদিন যে তা একটু কঠিনই ছিল, সেটিও বুঝতে পেরে একটু সহমর্মিতার সুর মাশরাফির কথায়, ‘জীবনের প্রথম (আন্তর্জাতিক) সেঞ্চুরি, এ কারণে ও খুব রোমাঞ্চিত ছিল। আর ও যা কিছুর মধ্য দিয়ে এসেছে, সেটাও মনে রাখতে হবে।’

ভবিষ্যতের জন্য একটা বার্তা অবশ্য দিয়ে দিয়েছেন সাব্বিরকে, ‘আমি আশা করি, ও যা করেছে, তা এই সিরিজেই থেমে থাকবে না। সামনে আমাদের অনেক খেলা। ও এমন আরও অনেক পারফরম্যান্স করবে।’

মাশরাফির বলার ভঙ্গিতে বুঝতে সমস্যা হলো না, সাব্বিরের কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্স তিনি আরও অনেক দেখতে চান, তবে এমন ‘কাউকে দেখিয়ে দেওয়া’ বা ‘জবার দেওয়া’র উদ্‌যাপন আর একবারও নয়।

বিডি২৪লাইভ/আরআই

আরো পড়ুন
  • 305
লোড হচ্ছে ···
আর নেই